কম্পিউটার কি! কম্পিউটারের ব্যবহার! Best Invention 1900

কম্পিউটারের সকল তথ্য। কম্পিউটার কি!

কম্পিউটারের পরিচয়

বর্তমান সভ্যতার বিজ্ঞানের দান বর্তমান যুগ কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা চিকিৎসা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ বৃহৎ শিল্প কারখানা ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি কাজে কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দিনদিন এক অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে এর প্রয়োগ ক্ষেত্র ও প্রয়োজনীয়তা।

কম্পিউটার কি?

কম্পিউটার শব্দের অর্থ গণনাকারী সাধারণভাবে যে কোন কোন যন্ত্রকে Computer বলে। ল্যাটিন শব্দ Compute থেকে Computer কথাটির উৎপত্তি।এর সাহায্যে জটিল জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধান সিদ্ধান্তমূলক কাজ করা যায়।

কম্পিউটার আবিষ্কারের ইতিহাস

প্রাচীনকালে মানুষ গণনার জন্য ঝিনুক,নুড়িঁ, দড়ির গিট ইত্যাদি ব্যবহার করত। খ্রিস্টপূর্ব 500 থেকে 450 অব্দে মিসর আর চীনে ফ্রেমে সাজানো গুটির স্থান পরিবর্তন করে গণনা করার যন্ত্র অ্যাবাকাস ( Abacus) চালু হয়। এই অ‍্যাবাকাস থেকেই কম্পিউটার ইতিহাসের যাত্রা শুরু।

1801 সালে ‘অ‍্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন ‘নামের এক স্বয়ংক্রিয় গণনা যন্ত্র তৈরির চেষ্টা করেন ক্রেমবিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রিটিশ গণিতবিদ অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ। 1823 সালে বিয়োগফল ভিত্তিক গণনা যন্ত্র ডিফারেন্স ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন চার্লস ব্যাবেজ।

1833 সালের তার পরিকল্পিত আধুনিক ক্যালকুলেটরের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে কম্পিউটারের উদ্ভাবিত হয়। IBM-(ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন) কর্পোরেশন চারজন প্রকৌশলীর সহযোগিতায় তৈরি করা প্রথম স্বয়ংক্রিয় সাধারণ ইলেকট্রোমেকানিক‍্যাল ডিজিটাল কম্পিউটার Mark-1,1944 সালে।

কম্পিউটার কি

কম্পিউটারের গঠন

কম্পিউটারের প্রধান দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত- হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার।হার্ডওয়ারের থাকে সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ),ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস, স্টোর ডিভাইস। কিবোর্ড, মাউস ইনপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে তবে যেকোনো সমস্যা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কাজ করে সিপিইউ।

প্রোগ্রাম সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে সফটওয়্যার তথ্য ও প্রোগ্রাম রদবদল করে একই কম্পিউটারকে দিয়ে নানা রকম কাজ করানো যায়। মূলত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার এর সংযুক্ত যন্ত্রগুলোর সকল কার্যক্রমই কম্পিউটারের কার্যক্রম।

কম্পিউটার কি

কম্পিউটার মূলত একটা হিসাব নিকাশের যন্ত্র। বর্তমানে এটা সব সকল রকম ডিজিটাল কাজগুলো করা যায়

কম্পিউটারের প্রকারভেদ

কম্পিউটারের গঠন ও প্রচলন অনুসারে কম্পিউটার তিন প্রকার এনালগ,ডিজিটাল ও হাইব্রিড কম্পিউটার।আকার সামর্থ্য ব্যবহারের গুরুত্ব ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায় মাইক্রো কম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার,মেইনফ্রেম কম্পিউটার ও সুপার কম্পিউটার।

এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্যগুলো সমন্বয়ে গঠিত কমিটি হচ্ছে হাইব্রিড কম্পিউটার কম্পিউটার। এ কম্পিউটারে সাধারণত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এনালগ পদ্ধতিতে এবং গণনা করা হয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে। কম্পিউটার কি।

সভ্যতার অগ্রগতিতে কম্পিউটারের ভূমিকাঃআধুনিক সভ্যতা ও সময় মানুষের দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং তা মানুষের কল্যাণের জন্য নিবেদিত। এই কল্যাণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে কম্পিউটার।

পড়ুন, মোবাইল ফোনের উপকারিতা কি কি!

কম্পিউটার বড় বড় কলকারখানার উৎপাদন, পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণ,খবরদারি, লাভ-ক্ষতির হিসাব নিকাশ প্রভৃতি করে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কম্পিউটার পরীক্ষার ফল প্রকাশ, অপরাধীর সন্ধান, বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, বিজ্ঞাপন প্রচার শিক্ষার প্রসারে ইত্যাদি কাজ করে সভ্যতার চাকাকে আরো দ্রুত করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

জলে-স্থলে আকাশ পথে চলাচলকারী সমস্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ,বিভিন্ন খেলাধুলা, ভবিষ্যৎ ভাবনা পরিকল্পনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কম্পিউটার মানুষের চিন্তা কি স্থীর, প্রসারিত ও কার্যকর করে তুলছে।এটি বিজ্ঞানীদের চিন্তা, চেষ্টাকে যাচাই-বাছাই,বিশ্লেষণে নির্ভুল তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে।

মহাকাশ গবেষণা,পৃথিবীর বাইরে চাঁদ -মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আবিষ্কারের চেষ্টা ও সফলতার জন্য কম্পিউটারে ব্যবহৃত হচ্ছে।ফলে আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতিতে ভূমিকাটি হয়ে উঠেছে উজ্জল।

কম্পিউটার ও আধুনিক জীবনঃ আধুনিক জীবন যাত্রায় কম্পিউটার একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হিসেবে অর্থবহ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিগত দুই-তিন দশকে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে কম্পিউটার ছাড়া তার বেশিরভাগই সম্ভব হতোনা।

কম্পিউটার কি

সিটি স্ক্যান এর সাহায্যে রোগ নির্ণয়, মঙ্গল গ্রহে যাত্রা, সমুদ্রের তলদেশে ভূগর্ভস্থ সম্পদের জরিপ প্রভৃতি কাজে কম্পিউটার ব্যবহার লক্ষ্যনীয়।কম্পিউটার আধুনিক যুগে আমাদের পরম নির্ভরশীল বন্ধু। কম্পিউটার এখন বড় বড় কলকারখানার উৎপাদনের পরিকল্পনা, আর তা নিয়ন্ত্রণের খবরদারি করছে, লাভ-ক্ষতির হিসাব নিকাশ করছে।

রেলওয়ে, এয়ারলাইন্স,ব‍্যাংক রিসার্চ সেন্টার,ইন্সুরেন্স প্রতিষ্ঠানে কম্পিটারের একচ্ছত্র অধিপত্য। পরীক্ষার ফল প্রকাশ, অপরাধীকে খুঁজে বের করা, পুরনো মামলার নথিপত্র খুঁজে তথ্য সংরক্ষণ করে দেওয়া, বিজ্ঞাপন প্রচার করা এসবই হচ্ছে কম্পিউটারের কাজ। মানুষের অসাধ্য কাজ কম্পিউটার সহজ সাধ্য করে চলেছ।

যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ,বিভিন্ন খেলাধুলা,ভিডিও গেম ইত্তাদি করছে কম্পিউটার। শিক্ষা ক্ষেত্রে কম্পিউটার শিক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। মুদ্রণ জগতে অধিপত্যি বিস্তার করেছে কম্পিউটার। ইন্টারনেটের সাহায্যে ঘরে বসে মুহূর্তে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় যেকোন তথ্য আদান-প্রদান করা যাচ্ছে।

মানুষের অসাধ্য ও বিপদজনক কাজেও কম্পিউটার নিয়ে এসেছে অকল্পনীয় সাফল্য। সভ্যতায় কম্পিটারের অবদান অনস্বীকার্য। এ কারণে কম্পিউটার আমাদের আধুনিক জীবনের অপরিহার্য উপাদান।

বাংলাদেশ কম্পিউটারের ব্যবহার

বাংলাদেশে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু হয়েছে ষাটের দশক থেকে। 1964 সালে আণবিক শক্তি কেন্দ্রে আইবিএম(IBM) 1620 সিরিজের একটি কম্পিউটার দিয়ে প্রাথমিকভাবে যাত্রা শুরু হয়েছিল। এদেশে কম্পিউটার শিক্ষার সূত্রপাত ঘটে 1984 সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় 1992 সালের ১লা সেপ্টেম্বর। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে 1991 সাল থেকে এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে 1994 সাল থেকে কম্পিউটার শিক্ষাকে পাঠক্রম এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কম্পিউটার কি। বর্তমানে বাংলাদেশে গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা,সামরিক স্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন প্রযুক্তি নির্ভর অধিদপ্তর ও সংস্থার যেমন – স্পারসো( Space Research and Remote Sensing Organization – SPARRSO), বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর( Bangladesh Meteorological Department ), বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর ( Survey of Bangladesh )।

পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা( Water Research Organization ), বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক অধিদপ্তর( Geological Survey of Bangladesh ) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান তাদের ডাটাবেজ তৈরি এবং মানচিত্র প্রণয়নের মাধ্যমে সম্পন্ন করছে।

বিশেষ করে জিআইএস( Geographical Information System -GIS) সফটওয়্যার ব্যবহার করার মাধ্যমে নানা ধরনের দক্ষতাপূর্ণ মানচিত্র প্রণয়ন করা সম্ভব হচ্ছে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর তারতম্য পরিবর্তন সম্পর্কিত নানা রকম বিশ্লেষণ করা হচ্ছে কম্পিউটার মডেলিংয়ের মাধ্যমে।

পড়ুন, ওয়ার্ডপ্রেস কি? কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস সাইট তৈরি করবেন?

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কম্পিউটারের সাহায্যে ছবিসহ নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রনয়ন করছে। বিশেষ করে ওষুধ ও কেমিক্যাল এর মান নিয়ন্ত্রণে কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।

এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ডাটাবেজ এদেশেই তৈরি হচ্ছে।

কম্পিউটার জনিত সমস্যা

কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। কম্পিউটারে ব্যাবহার ইতিমধ্যে অফিসে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, বিভিন্ন সংস্থার কর্মীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একনাগাড়ে অনেকদিন কম্পিউটার চালালে কিংবা মাত্রাতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহারে চোখের ক্ষতি হতে পারে।

মাথা ব্যাথা সহ অন্যান্য শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়া ভাইরাস আক্রমণ কিংবা বৈদ্যুতিক গোলযোগের গুরুত্বপূর্ণতথ্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভুল তথ্য পরিবেশিত হতে পারে।

কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অন্য সব কাজকর্ম এবং পড়া বাদ দিয়ে কম্পিউটার গেমসে আসক্ত হয়ে উঠতে পারে। এজন্য কম্পিউটারকে ইতিবাচক অর্থে ব্যবহার করতে হবে।

আজকের দিনে মানব সভ্যতার কম্পিউটার নির্ভর হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানের যুগান্তকারী আবিষ্কার মানুষের জীবনে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। মহাকাশ গবেষণা ও গ্রহান্তরে যাত্রার মাধ্যমে সভ্যতার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া মানুষকে উজ্জীবিত করেছে।

তাই আজ বিজ্ঞানী, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আবহাওয়াবিদ, ক্রীড়াবিদ সবার কাছে কম্পিউটার হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের সঙ্গী, আলোর পথের দিশারী,অভিযাত্রী।

আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন কম্পিউটার কি! এর ব্যবহার গুলো, কিভাবে কাজে লাগে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *