ফরমালিন কি? ফরমালিন এর সুবিধা অসুবিধা | Most Dangerous of 2021

ফরমালিন কি?

৪০% মিথান্যাল বা ফরমালডিহাইড (H-CHO) এর জলীয় দ্রবণ কে বলা হয় ফরমালিন। পরিমাণ হিসেবে ৪০% H-CHO, ৮% CH3OH ও ৫২% পানি(H2O) বিদ্যমান থাকে। ফরমালিন একটি শক্তিশালী জীবাণুনাশক। মূলত এর ব্যবহার ক্ষেত্র মৃত জীবদেহের সংরক্ষণে, সংক্রামক রোগীর বিছানা, আসবাবপত্র, ঘরের মেঝে ইত্যাদি জীবাণুমুক্ত রাখতে। মেলামাইন রেজিন, ব্যাকেলাইট, প্লাস্টিক তৈরিতে, রসায়ন গবেষনাগারে বিজারক হিসেবে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এই বিষাক্ত উপাদান টি খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে। কারণ পরীক্ষায় দেখা গেছে ফরমালিন মোল্ডের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। তাই এটি কার্যকর হিসেবে খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহার করা হয়। ফরমালিনের মূল উপাদান মিথ্যানাল (H-CHO) জীবদেহের প্রোটিন অ্যামিনো গ্রুপের সাথে বন্ধন সৃষ্টি করে। বিধায় প্রোটিন নষ্ট হতে পারে না। এ কারণে দীর্ঘদিন মাছ-মাংস এর তাজাভাব বজায় থাকে।

ফরমালিন

ফরমালিন ব্যবহারের সুবিধাঃ

• ফরমালিন শক্তিশালী জীবাণু নাশক ও জীবাণু ক্রিয়া জনিত পচনরোধক বা অ্যান্টিসেপটিক বলে এর ব্যবহার ক্ষেত্রে ব্যাপক।
• মৃত জীবজন্তুর দেহ বা এদের বিভিন্ন অংশ সংরক্ষণে এটি বহুল ব্যবহার করা হয়। ফরমালিন এগুলোর পচন রোধ করে থাকে।
• জীববিজ্ঞান গবেষণা গারে নমুনা সংরক্ষণে ব্যবহার করা হয়।
• সংক্রামক রোগীর ব্যবহৃত বিছানা, আসবাব ও ঘর জীবাণুমুক্ত করতে ফরমালিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ফরমালিন ব্যবহারের অসুবিধা গুলোঃ

• এটি তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত।
• শক্তিশালী জীবানুনাশক ও অ্যান্টিসেপটিক বলে এর অপব্যবহার দেখা যায়। মাছ, মাংস, দুধ, ফল, শাকসবজি সংরক্ষণে একে ব্যবহার করা হয়। ফলে খাদ্যের সাথে আমাদের দেহে প্রবেশ করে বিভিন্ন অর্গান কে ধ্বংস করে থাকে। বিশেষ করে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে।
• ফরমালিন ব্যবহারে খাদ্য স্বাভাবিক খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙ্গে যায়। ফলে তাদের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ ও খাদ্যমান বিনষ্ট হয়। ফরমালিন ব্যবহার জাতির জন্য ক্ষতিকর।

পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে খাদ্য সংরক্ষণে যত রকমের প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয় এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হলো ফরমালিন। খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সরকারি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগারে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। সারাদেশে প্রায় ২১৮৬০ টি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব নমুনা পরীক্ষা পরীক্ষা করে দেখা গেছে শতকরা ৫০ ভাগ খাদ্যেই ফরমালিন অবস্থিত রয়েছে। মানুষের জীবনধারণের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও। ক্রমাগত খাদ্যপণ্যে ভেজাল জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকাল বেশ কিছু মাছ, মাংসের বাজার, ফলমূলের বাজার, এমনকি শাক সবজির বাজারে ফরমালিনমুক্ত বাজার সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে। কিন্তু আসলে সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বেশিরভাগ খাবারে ফরমালিন যুক্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে।

ফরমালিন আইন,

পচনশীল পণ্য, বিশেষত খাদ্যপণ্যে গণহারে ফরমালিন ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্য মিশ্রণ নিয়েও জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ। ফরমালিন ব্যবহার বন্ধে সরকারের নানা পদক্ষেপের সত্ত্বেও অসাধু ব্যবসায়ীরা এর ব্যবহার করে চলেছে। তাই সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ। এবং ভেজাল বিরোধী আইন কার্যকর। তা বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরী। যদিও নিরাপদ খাদ্য আইন জাতীয় সংসদে পাস করা হয় ২০১৩ সালে। তারপরও আইনের যথাযথ প্রয়োগ অতি জরুরী।

আরও পড়ুন,

• নতুন নতুন নিউজ পেতে ভিজিট করুন।

• ইউটিউব এর বাপ। ইউটিউব ডাউনলোড। Best New Youtube App 2021

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *